রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
bartika24

বণিক বার্তা

অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন

অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন

আইন পেশার ঢাল ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন। উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং সমাজের সুপরিচিত ব্যক্তিত্বদের।

ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন এই ব্যারিস্টার। নিজে এবং চক্রের সদস্যদের মাঠে নামিয়ে একযোগে শুরু হয় তথ্য সন্ত্রাস।

ব্যারিস্টার সারোয়ার দীর্ঘদিন ধরে দেশের দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে নিয়ে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে গেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান।

আর তাতেই নতুন করে জিঘাংসা চরিতার্থ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ব্যারিস্টার সারোয়ার। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এমন তথ্য সন্ত্রাসে নেমেছেন যা কল্পনাকেও হার মানায়।

লিখেছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নাকি এক লাখ দুই হাজার একর জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। অথচ পুরো ঢাকা শহরের আয়তনই এর চেয়ে অনেক কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন ৩০৬.৪ বর্গকিলোমিটার বা প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ একর। আর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন ৩৬০ বর্গকিলোমিটার। একরের হিসাবে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০০ একর।

ব্যারিস্টার সারোয়ারের অভিযোগ সঠিক হলে পুরো ঢাকা শহর এবং এর বাইরের এলাকাও থাকত বসুন্ধরার হাতে। প্রশ্ন হলো, আইন পেশায় নিয়োজিত একজন ব্যক্তি কী করে এমন তথ্য সন্ত্রাস প্রকাশ্য চালাচ্ছেন? কোন খুঁটির জোরে তিনি দিনের পর দিন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে সীমাহীন মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। 

ব্যারিস্টার সারোয়ার তার পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আইন সকলের প্রতি সমান এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ অথচ বছরের পর বছর মিথ্যাচারের প্রতিকার চেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আদালতের আশ্রয় নেয়ায় এই ব্যারিস্টারই নতুন প্রোপাগান্ডায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের ঘটনায় এম. সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকার আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান।  

এতে বলা হয়, বিবাদী এম. সারোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অনবরত মিথ্যা, অকথ্য এবং মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে বাদী আহমেদ আকবর সোবহান, তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে ব্যবসায়ী কমিউনিটি ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর কাছে অপমানিত, অপদস্থ ও সমালোচিত হয়েছেন, যার কারণে তারা আর্থিক, ব্যবসায়িক ও মানসিকভাবে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বিবাদী পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বড় ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ উপার্জনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। বাদী আহমেদ আকবর সোবহান দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মালিক। বসুন্ধরা গ্রুপ ১৯৮৭ সালে আবাসন ব্যবসার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে গ্রুপটি খাদ্যপণ্য, কাগজ, সিমেন্ট, এলপিজি, শিপিং, গোল্ড, সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ব্যবসা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।

এই মামলার খবর সে সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। অথচ সারোয়ার হোসেন (৫ মে) ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এই মামলা নিয়ে কোনো মিডিয়া সংবাদ প্রকাশ করেনি। বসুন্ধরার কারণেই সংবাদ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। তার পোস্টের পুরোটাই এভাবে মিথ্যাচার এবং প্রপাগান্ডায় ভরপুর। আদালতের আওতাধীন বিষয়ে একজন ব্যারিস্টার এভাবে ফেসবুকে পোস্ট করতে পারেন কিনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। 

ব্যারিস্টার সারোয়ার এর আগেও বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে হত্যা-গুম-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি ১৫ সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেলে ছিলেন এই ব্যারিস্টার। অথচ এর আগে তিনিই ১৫ সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হলে আইনজীবী প্যানেল থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন সারোয়ার হোসেন।

এভাবেই ব্যারিস্টারের মুখোশের আড়ালে একদিকে তথ্য সন্ত্রাস এবং অন্যদিকে সীমাহীন অপরাধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সারোয়ার হোসেন। আইনজীবীর দোহাই দিয়ে থেকে যাচ্ছেন আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আরও

দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরা ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারা, তদন্তের অপেক্ষায় দেশ

বণিক বার্তা

দুর্নীতির অভিযোগে ঘেরা ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারা, তদন্তের অপেক্ষায় দেশ

একটি সরকারের পতন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু অ...

২০২৬-০৯-০৩ ১৭:৪৮

নদী ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

বণিক বার্তা

নদী ভাঙনকবলিত অসহায়দের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার নদী ভাঙনকবলিত অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন...

২০২৬-০৯-০২ ২০:৪০

আস্থা ফেরানোর চেষ্টায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, বাড়ছে লেনদেনের সুযোগ

বণিক বার্তা

আস্থা ফেরানোর চেষ্টায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, বাড়ছে লেনদেনের সুযোগ

দীর্ঘদিনের নানা সীমাবদ্ধতার পর গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক...

২০২৬-০৯-০২ ১৫:৫০

শিল্পের নামে নদী দখল, মেঘনার ২৪১ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ

বণিক বার্তা

শিল্পের নামে নদী দখল, মেঘনার ২৪১ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর প্রায় ২৪১ একর জমি দখলের অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। মেঘনা গ্...

২০২৬-০৮-৩১ ১৮:১৮

সরকারের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ

বণিক বার্তা

সরকারের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ

সরকার পরিবর্তনশীল, কিন্তু রাষ্ট্র স্থায়ী। সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র তথা দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ বা ভাগ্য।

২০২৬-০৮-৩১ ১৭:৩২

৫০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীদের অর্থ ফেরতের দাবি

বণিক বার্তা

৫০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীদের অর্থ ফেরতের দাবি

সমর্পণ করা ৫০ শতাংশ পেনশনের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘৫০% পেন...

২০২৬-০৮-৩১ ১৪:৪৮